আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রশাসন থেকে নৌকাবাইচের আয়োজন করার জন্য বলা হয়েছে
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি করা ‘তৌহিদী জনতা’র পক্ষের লোকজন প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে আসেননি। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, “নৌকাবাইচ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুপক্ষকে নিয়ে বসার জন্য বলা হয়েছিল উপজেলা প্রশাসন থেকে। এক পক্ষের (তৌহিদী জনতা) লোকজন বলেছেন, আজকে তারা সবাই এক সঙ্গে আসতে পারবেন না। কালকে বসবেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আশা করছি নৌকাবাইচ হচ্ছে।”
একই সময়ে আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা বসার জন্য বাজারে রয়েছি।” তিনি বলেন, “জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, নৌকাবাইচ আয়োজন করার জন্য। এখন আমরা সবাই একসঙ্গে বসতেছি। নৌকাবাইচ হচ্ছে।”
বৈঠকের বিষয়ে রাতে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদারের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, “বিষয়টি জেনে আমি জানাচ্ছি।” কিছুক্ষণ পরে তিনি বলেন, “একটা বৈঠক চলতেছে, এটা আয়োজকদের।”
‘তৌহিদী জনতা’র পক্ষ বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা আপত্তি দিয়েছেন, আমরা তাদের কথাও শুনতে চাই। কেন তারা আপত্তি দিলেন।”
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও ২৮ আগস্ট বার্ষিক নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। অনেক বছর ধরে চলা এ প্রতিযোগিতায় অতীতে কোনো বাধার মুখে পড়েননি আয়োজকরা। কিন্তু এবার ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট করছে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে কয়েকজন।