সকাল সোয়া ১০টায় আগুনের সূত্রপাত, নিয়ন্ত্রণে আসে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে; কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২০ ইউনিট
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোলতানুর আফরিন জুনায়েদ সাংবাদিকদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার তথ্য জানান। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। আগুনের তীব্রতা ও কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে চেরাগ আলী এলাকার কারখানার ইউনিট-২-এ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। কারখানার ভেতরে ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় গাজীপুর, উত্তরা ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ইউনিট পাঠানো হয়। টঙ্গী, উত্তরা, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন, কুর্মিটোলা, রাজেন্দ্রপুর ও পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। পাশাপাশি বিপজ্জনক রাসায়নিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ মোকাবিলায় মিরপুর থেকে একটি বিশেষ হ্যাজম্যাট টেন্ডার পাঠানো হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলম জানান, কারখানাটির অবকাঠামো ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে তৈরি। ভবনের ভেতরে উচ্চ তাপমাত্রা এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় দমকলকর্মীদের।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনও সহায়তা দেয়। এদিকে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারখানার আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেন। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করেন তাঁরা।
অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছিলেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় তাৎক্ষণিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।