নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ পৌরসভার সচিব আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় পৌরসভার প্রকৌশলী, মূল ঠিকাদার, সাব-ঠিকাদার ও নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে নিহত শ্রমিক আছাদুলের বাবা ঠান্ডা মন্ডল বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকৌশলী এবং সদস্যসচিব হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার আরাজী গঙ্গারামপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন তিনতলা পৌর ভবনের ছাদের সাটারিং ভেঙে পড়ে। এ সময় ভবনটিতে কাজ করছিলেন ১৩ জন শ্রমিক। তাঁদের কয়েকজন ধসে পড়া অংশের নিচে চাপা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় আরও চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত শ্রমিকেরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঠান্ডা মিয়ার ছেলে আছাদুল (২৫) এবং রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব (২২)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভিশন ২০২০’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটির নির্মাণকাজ করছিল। শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, সাটারিংয়ে ব্যবহৃত পুরোনো ও নিম্নমানের বাঁশ-কাঠের কারণে কাঠামোটি চাপ সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে। কাজ চলার সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং তদারককারী প্রকৌশলীর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে সাটারিং ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকীউল বারী বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি নিজেও কমিটিতে রয়েছেন। দ্রুত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। পৌরসভার সচিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নির্মাণাধীন সরকারি ভবনে এ দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যুতে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা, সাটারিংয়ের মান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।