মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে চলছে ব্যাপক আয়োজন। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জাকে ঘিরে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। অন্যদিকে, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে।
চলতি বছর কক্সবাজার জেলায় মোট ৩২৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ছয়টি বেশি। এর মধ্যে ১৫৪টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৭০টি ঘটপূজার মণ্ডপ।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে চকরিয়া পৌরসভাসহ ৯৬টি, কক্সবাজার সদর পৌরসভাসহ ৫৭টি, কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, মহেশখালী পৌরসভাসহ ৩৪টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, পেকুয়ায় নয়টি, উখিয়ায় নয়টি এবং টেকনাফে ছয়টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের প্রস্তুতি সম্পর্কে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। জেলার সব মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দোলন ধর বলেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই যাতে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
উৎসব চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি চালু করা হয়েছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সাদা পোশাকে নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মণ্ডপ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পোশাকধারী পুলিশ, আনসার, র্যাব ও বিজিবির টহল নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রাখা হবে।
দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে মিলনমেলা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবটি সামাজিক সম্প্রীতিরও বার্তা বহন করে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।