বাংলাদেশের আইসিটি খাতে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

চীনা প্রযুক্তির বিস্তার, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ— চাপে পড়তে পারে ব্যাংকিং ও ডেটা অবকাঠামো

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০
 ছবি:

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, শিল্প উৎপাদন থেকে সরকারি সেবা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে ক্লাউড, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও বড় পরিসরে তথ্য বিশ্লেষণের চাহিদা। ফলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রভাবও ঢুকে পড়ছে দেশের বাজারে। বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ থেকে ডেটা সেন্টার, ক্লাউড, ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও এআই অবকাঠামোয় চীনা কোম্পানির উপস্থিতি বাড়ার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ শৃঙ্খল-সংক্রান্ত নীতির কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ক্রয় ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় নতুন হিসাব যুক্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরিফায়েড মার্কেট রিসার্চের হিসাবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আইসিটি বাজারের আকার ছিল প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩২ সালে বাজারটি ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৬ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

দেশের আইসিটি বাজারের বড় অংশ টেলিযোগাযোগ, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর। এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতের অংশ প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০২৪ সালে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার অংশ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ব্যাংক, আর্থিক সেবা ও বীমা খাতও প্রযুক্তির অন্যতম বড় ব্যবহারকারী। ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, সাইবার নিরাপত্তা, আর্থিক প্রযুক্তি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কারণে এ খাতে প্রযুক্তি ব্যয় বাড়ছে। ফলে টেলিযোগাযোগ এখনো সবচেয়ে বড় খাত হলেও ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা দ্রুত বাড়তে থাকা প্রযুক্তি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

দেশের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত ও দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক টেমেনোসের টি২৪, যুক্তরাষ্ট্রের ওরাকলের ফ্লেক্সকিউব এবং ভারতের ইনফোসিসের ফিনাকলের মতো সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি সার্ভার, প্রসেসর, তথ্য সংরক্ষণ, নেটওয়ার্ক ও দুর্যোগকালীন বিকল্প অবকাঠামোতেও বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি রয়েছে। ওরাকল, আইবিএম, ইনটেল, ডেল, এইচপিই ও সিসকোর মতো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এখন এই বাজারের আরও বিস্তৃত অংশে প্রবেশের চেষ্টা করছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। তাদের উপস্থিতি শুধু মোবাইল নেটওয়ার্ক বা টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামে সীমাবদ্ধ নেই; সার্ভার, তথ্য সংরক্ষণ, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তিতেও তারা বাজার বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চে চীনের জেডটিই ও গ্রামীণফোন এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক, বৃহৎ ভাষা মডেল ও এজেন্টিক এআই নিয়ে সহযোগিতার সমঝোতা করেছে।

বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় নথিতেও জেডটিইর উপস্থিতির সাম্প্রতিক উদাহরণ রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে জেডটিইর নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগকে একটি সরকারি চুক্তি দেওয়া হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মার্কিন ডলার এবং ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

ডেটা অবকাঠামোতেও চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ঢাকার শেয়ারবাজারের অবকাঠামো আধুনিকায়নে হুয়াওয়ের ডেটা সেন্টার ভার্চুয়ালাইজেশন, কম্পিউটিং ও তথ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের তথ্য প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রকাশনায় রয়েছে। হুয়াওয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট, নজরদারি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোয় তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের প্রযুক্তি বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু টেলিকম নেটওয়ার্কের অ্যান্টেনা, রাউটার বা ট্রান্সমিশন সরঞ্জাম নিয়ে নেই। প্রতিযোগিতা ধীরে ধীরে এমন সব অবকাঠামোকে ঘিরে বিস্তৃত হচ্ছে, যেগুলোর সঙ্গে দেশের আর্থিক লেনদেন, তথ্য সংরক্ষণ, সরকারি সেবা এবং ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বাসব প্রসাদ বাগচী বলেন, দেশের কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনো সাধারণভাবে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মূল ব্যাংকিং সফটওয়্যারে ওরাকল ফ্লেক্সকিউব, টেমেনোস টি২৪, ইনফোসিস ফিনাকল ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমাধান ব্যবহার করছে। সার্ভার, প্রসেসর, তথ্য সংরক্ষণ ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয়ও পশ্চিমা প্রযুক্তির দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে।

তবে টেলিযোগাযোগের বাইরে চীনা কোম্পানিগুলো এখন ক্লাউড, ডেটা সেন্টার, ব্যাংকিং অবকাঠামো ও অন্যান্য এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তিতে নিজেদের জায়গা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এসব প্রযুক্তিকে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন শুধু কম দামের বিকল্প হিসেবে নয়, সক্ষমতা ও আধুনিকতার দিক থেকেও বিবেচনা করছে।

এই প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি। চুক্তিতে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির নাম করে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা-সংবেদনশীল প্রযুক্তি, রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গীকার রয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ শৃঙ্খলে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর সফটওয়্যার নকশা, উন্নয়ন ও সরবরাহে সম্পৃক্ততা সীমিত করার চেষ্টা করবে।

চুক্তির অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার সরাসরি নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। বরং কোনো প্রযুক্তি বা পণ্যের উৎস, এতে ব্যবহৃত মার্কিন প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার, সরবরাহ শৃঙ্খলের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে কিনা—এসব প্রশ্ন ভবিষ্যতে ক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তির বৃহত্তর অংশেও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা, রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা এবং তৃতীয় দেশের বাণিজ্যনীতির বিষয়ে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।

এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। হুয়াওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ‘এনটিটি লিস্ট’-এ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি প্রশাসন বিধির আওতায় এর সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের প্রযুক্তি লেনদেনে লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল যোগাযোগ কমিশনের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘কাভার্ড লিস্ট’-এ হুয়াওয়ে ও জেডটিইর টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামও রয়েছে।

২০২৬ সালের জুনে জার্মান প্রতিষ্ঠান রবার্ট বশকে হুয়াওয়ের কাছে নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সফটওয়্যার সরবরাহের ঘটনায় ৩ কোটি ৬১ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরো। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বশের বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ডলারের মাইক্রো-ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সেন্সর ও সফটওয়্যার হুয়াওয়ে ও তার সহযোগীদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সরবরাহ করেছিল। মার্কিন বিধির ‘ফরেন ডাইরেক্ট প্রোডাক্ট রুল’-এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রযুক্তির ব্যবহারের ভিত্তিতে রফতানি নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য হতে পারে।

এই উদাহরণটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড সেবা প্রদানকারী বা সরকারি প্রতিষ্ঠান চীনা কোনো কোম্পানির প্রযুক্তি কিনতে চাইলে শুধু পণ্যের দাম, সক্ষমতা ও স্থানীয় সেবার মান বিবেচনা করলেই হবে না। সেই প্রযুক্তির ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত সফটওয়্যার, প্রযুক্তি বা উপাদান আছে কিনা এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো মার্কিন নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কিনা—সেটিও যাচাই করতে হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় উন্মুক্ত থাকা উচিত। তবে বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধের বাস্তবতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বাণিজ্য অংশীদারদের নিষেধাজ্ঞা বা কালো তালিকাভুক্ত দেশ ও কোম্পানি থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের আওতায় থাকা কোনো কোম্পানির প্রস্তাব আকর্ষণীয় হলেও তা গ্রহণ করা যায় না।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রযুক্তিগত নির্ভরতা। কোনো একটি দেশ বা প্রযুক্তি পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে সফটওয়্যার হালনাগাদ, লাইসেন্স, যন্ত্রাংশ, কারিগরি সহায়তা কিংবা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভবিষ্যতে সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, সরকারি তথ্যভাণ্ডার ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সরবরাহকারী পরিবর্তনের সক্ষমতা না থাকলে সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাও সীমিত হতে পারে।

তাই শুধু দেশে ডেটা রাখলেই প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয় না। ডেটা কোন সার্ভারে আছে, সার্ভারের হার্ডওয়্যার কার, ক্লাউড অবকাঠামো কার নিয়ন্ত্রণে, সফটওয়্যারের লাইসেন্স ও হালনাগাদ কার ওপর নির্ভরশীল, কারিগরি সহায়তা কোথা থেকে আসে এবং সংকটের সময় অন্য প্রযুক্তিতে স্থানান্তরের সক্ষমতা আছে কিনা—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ডেটা সেন্টার ও নিজস্ব ক্লাউড সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক প্রযুক্তি সরবরাহকারীর মধ্যে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নিয়মিত স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা নিরীক্ষা, সরবরাহ শৃঙ্খল যাচাই, দুর্যোগকালীন পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং বিকল্প প্রযুক্তিতে দ্রুত স্থানান্তরের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রকৌশলী, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ক্লাউড স্থাপত্যবিদ এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি আইনের বিষয়ে প্রশিক্ষিত জনবল।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দেশের প্রযুক্তিসেবা নিতে অসুবিধা হবে—এমন কোনো বিষয় এখনো তাদের নজরে আসেনি। কেউ এ ধরনের অভিযোগও করেনি। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, ই-কমার্স, টেলিযোগাযোগ, সরকারি সেবা ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন হবে শক্তিশালী চিপ, সার্ভার, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড এবং মডেল অবকাঠামো। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুধু টেলিযোগাযোগ বা মোবাইল নেটওয়ার্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এআই অবকাঠামোতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর মনে করেন, এআই ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে কোন দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, কোন অবকাঠামোর ওপর তা চলছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির কোনো শর্ত এতে বাধা তৈরি করবে কিনা—এসব প্রশ্ন সামনে আসবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতাও বজায় রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়বে। তবে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও কৌশলগত ডেটা কোথায় থাকবে, কারা এতে প্রবেশ করতে পারবে এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—এসব বিষয়ে রাষ্ট্রের স্পষ্ট সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জটি কোনো একটি দেশের প্রযুক্তি বেছে নেওয়া নয়; বরং এমন একটি প্রযুক্তি কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে নিরাপত্তা, ব্যয়, সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে ভারসাম্য থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা যত গভীর হবে, বাংলাদেশের মতো দ্রুত ডিজিটালায়নশীল দেশের জন্য সরবরাহকারী বাছাইয়ের সিদ্ধান্তও তত বেশি ভূরাজনৈতিক হয়ে উঠবে। ফলে প্রযুক্তি কেনার প্রশ্নটি ভবিষ্যতে শুধু ‘কোন পণ্য ভালো’—এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ‘কোন প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ, এর ওপর কার নিয়ন্ত্রণ এবং সংকটের সময় বাংলাদেশ কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে’—সেটিই হয়ে উঠতে পারে মূল প্রশ্ন।

১

দুই মাসে তিন সিনেমা, ৯০০ কোটির কাছাকাছি আয়

২

চীনা প্রযুক্তির বিস্তার, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ— চাপে পড়তে পারে ব্যাংকিং ও ডেটা অবকাঠামো

৩

ভারতের প্রশংসা ব্রাজ়িল কোচের, দেখছেন না গুরপ্রীতের দোষ

৪

মেসি-পরবর্তী প্রজন্মকে সামনে আনার প্রক্রিয়ায় নতুনদের সুযোগ দিচ্ছেন স্কালোনি

৫

২০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার লজ্জিত মদ্রিচ

৬

মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে আরেক রেকর্ড বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানের

৭

কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা, যুদ্ধ শুরু হলে কী হতে পারে

৮

সামান্য এগিয়ে লুলা, দ্বিতীয় দফা ভোটের আভাস

৯

এক বছরেই ৩ ঈদ ও ২ হজ, কত সালে ঘটবে বিরল এই ঘটনা

১০

স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ায়, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

১১

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তে সময় লাগবে: কৌঁসুলি তামীম

১২

পঞ্চগড়-কক্সবাজার: ১ হাজার ৭৭ কিলোমিটারে রেলে জুড়বে দেশের দুই প্রান্ত

১৩

স্কুলের মাঠে কলাগাছ, ফটকে বাঁশের বেড়া; দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে তালা দেওয়ার অভিযোগ

১৪

রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন পুলিশের

১৫

সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

সম্পর্কিত