- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সমাধানের আশায় ব্রেন্ট ১০১.৭১, ডব্লিউটিআই ৯৮.১৫ ডলারে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ আসতে পারে—এমন আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলেও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।
একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ১৫ ডলার।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ আসতে পারে—এমন আশায় তেলের দামে যে ঝুঁকির প্রিমিয়াম ছিল, তার একটি অংশ কমে যাচ্ছে। তবে এই কূটনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে।
রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধও অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকির মাত্রা এখনো গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। গত তিন দিনে এই সমুদ্রপথে জাহাজে অন্তত তিনটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়া-বাড়ির সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দামে দ্রুত ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সোমবারের দরপতন সেই ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে বাজারের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে নেওয়ার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।