প্রথমবারের মতো ফিফা আয়োজিত আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় বসবে এই টুর্নামেন্ট। ঐতিহাসিক এই সুযোগ নিয়ে জাতীয় দলের ফুটবলারদের মধ্যে রোমাঞ্চ। কিন্তু একই সময়ে দেশের ঘরোয়া ফুটবলে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আসিয়ান কাপ সামনে রেখে আগামীকাল বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মাঠের অনুশীলনে নামবে জাতীয় দল। প্রাথমিক দলে থাকা ২৮ ফুটবলারের ২৭ জন ইতিমধ্যে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের কারণে গোলরক্ষক মিতুল মারমা পরে যোগ দেবেন। প্রবাসী ও বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা সরাসরি ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় দলের ব্যস্ততার মধ্যেই ঘরোয়া মৌসুমের সূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর কথা ছিল। ক্লাবগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে সেটি বাতিল করেছে বাফুফে। এরপর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঘরোয়া মৌসুম শুরুর কথা জানানো হয়েছে ক্লাবগুলোকে।
সমস্যা হলো, ওই সময় জাতীয় দল থাকবে ইন্দোনেশিয়ায়। ফলে আবাহনী, মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংসের মতো শীর্ষ ক্লাবগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই মাঠে নামতে বাধ্য হতে পারে।
জাতীয় দলের স্বার্থে অবশ্য ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে আপত্তি করেনি। মোহামেডান তাদের খেলোয়াড়দের ক্লাবের টিম বাসে করে জাতীয় দলের ক্যাম্পে পাঠিয়েছে। কিন্তু ক্লাবটির সংকট অন্য জায়গায়। জাতীয় ও অনূর্ধ্ব-২০ দলে তাদের ১৫ জন খেলোয়াড় রয়েছেন। ফলে এই খেলোয়াড়দের ছাড়া নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করতেই আগ্রহী নয় তারা।
মোহামেডানের পরিচালক মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ঘরোয়া ফুটবল শুরুর যে কথা বলেছে বাফুফে, তা কীভাবে হবে আমরা বুঝতে পারছি না। তখন জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছাড়া ঘরোয়া ফুটবল খেলা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।’
শুধু খেলোয়াড় সংকট নয়, দলবদল নিয়েও আছে জটিলতা। বসুন্ধরা কিংস ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস এখনো ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞামুক্ত হতে পারেনি। এর মধ্যে আবার আসিয়ান কাপ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় হওয়ার কথা সাফ।
অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—টানা আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মধ্যে থাকবে জাতীয় দল। আর এই সময়েই ঘরোয়া ফুটবল চালু করার পরিকল্পনা করছে বাফুফে। সূচির এই সংঘাতই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।
বাফুফের লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, ‘আমরা আগামী মাসে ঘরোয়া ফুটবল শুরুর কথা বলেছি। দেখা যাক, কী হয়।’
এদিকে ৬ অক্টোবর ঢাকায় প্রস্তাবিত ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সরকার অর্থায়নে রাজি না হওয়ায় বাফুফে এখন স্পনসর খুঁজছে। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ঢাকায় আনার সুযোগটি এখনো নিশ্চিত নয়।
একই সময়ে ভারত অবশ্য নিজেদের ফিফা উইন্ডো কাজে লাগিয়ে তিনটি বড় ম্যাচ নিশ্চিত করেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পানামা এবং ৩ ও ৬ অক্টোবর ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে তারা।
বাংলাদেশের সামনে তাই একই সঙ্গে আনন্দ ও উদ্বেগের দুই ছবি। আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়ার রোমাঞ্চ আছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগও আছে। কিন্তু সেই প্রস্তুতির সময়ই যদি ঘরোয়া ফুটবল থমকে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের ফুটবলে।
জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়ার সংস্কৃতি অবশ্যই জরুরি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সূচির মধ্যে সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আসিয়ান কাপের আগে জাতীয় দলকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখাই এখন বাফুফের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আসিয়ান কাপের রোমাঞ্চ যেন ঘরোয়া ফুটবলের অনিশ্চয়তায় ঢাকা না পড়ে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।