বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর জাপানের রাজধানী টোকিও। প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরকে ঘিরেই এখন উঠছে ভিন্ন এক উদ্বেগ—টোকিও কি ধীরে ধীরে এশিয়ার নতুন ‘যৌন পর্যটনকেন্দ্র’ হয়ে উঠছে?
অভিযোগটি মূলত অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত। করোনা মহামারির পর জীবনযাত্রার ব্যয় ও ঋণের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জাপানের কিছু তরুণী যৌন শিল্পে জড়িয়ে পড়ছেন বলে বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে টোকিওর কিছু এলাকায় বিদেশি পুরুষদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন লিয়াজোঁ কাউন্সিল প্রটেকটিং ইয়ুথের মহাসচিব ইয়োশিদে তানাকার ভাষ্য, করোনা-পরবর্তী সময়ে টোকিওর কিছু এলাকায় যৌনকর্মের সঙ্গে যুক্ত তরুণীদের সংখ্যা বেড়েছে। তাঁর দাবি, এসব এলাকায় বিদেশি পুরুষদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। তানাকা বলেন, বিশেষ করে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের একটি অংশ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে যৌন শিল্পে ঢুকছে। ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকটের পাশাপাশি হোস্ট ক্লাবে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেও কেউ কেউ এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি শুধু জাপানের অভ্যন্তরীণ সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন না দেশটির প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা কাজুনোরি ইয়ামানোই। তাঁর মতে, বিদেশিদের কাছে জাপানি নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা দেশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন চক্রও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার অভিযোগে সম্প্রতি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জাপানের পুলিশ।
তবে টোকিওকে সরাসরি ‘যৌন পর্যটনের নতুন কেন্দ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবিটি মূলত কিছু অধিকারকর্মী ও সংবাদপ্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ। এর ব্যাপকতা ও প্রকৃত পরিসর নিয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান সীমিত।
জাপানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা অবশ্য নতুন এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি। বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ হলেও দীর্ঘদিনের স্থবির অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং তরুণদের আর্থিক চাপ সামাজিক নানা সমস্যাকে আরও দৃশ্যমান করছে।
ফলে টোকিওর আলো ঝলমলে নগরজীবনের আড়ালে অর্থনৈতিক সংকট, তরুণীদের নিরাপত্তা এবং যৌন শিল্পের বিস্তার—এই তিনটি বিষয়ই এখন নতুন করে আলোচনায়।