অডিটে অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার ১৬টি অসংগতি

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার সমিতির হিসাবে কোটি টাকার অসংগতি

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮
 ছবি:

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়ম ও অসংগতি ধরা পড়েছে। সংগঠনটির অডিট ও অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ভাউচার ছাড়া টাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না পাওয়া, একই খরচের বিল একাধিকবার দেখানো এবং সংগঠনের অর্থে ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী কেনার মতো অভিযোগ উঠে এসেছে।

২০২৪ সালে বর্তমান কমিটির উদ্যোগে বিগত কয়েক বছরের হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। অধ্যাপক এস এম মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার ১৬টি অসংগতি তুলে ধরা হয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-২০২২ মেয়াদে সমিতির বিশেষ তহবিল থেকে মামলা পরিচালনার জন্য ৩৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা তোলা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার খরচের বিবরণ পাওয়া গেছে। বাকি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রয়োজনীয় নথি অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

মামলা পরিচালনার জন্য আলাদা বিশেষ তহবিল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ তহবিল থেকেও ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যয়ের পেছনে অনুমোদিত রিকুইজেশন বা প্রয়োজনীয় কার্যবিবরণী পাওয়া যায়নি।

হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমিতির আয়-ব্যয়ের মূল বিবরণী, ব্যাংক হিসাবের চেক রেজিস্টার, কেনাকাটার স্টক রেজিস্টার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা পাওয়ার রসিদ এবং বকেয়া চাঁদার বিস্তারিত হিসাব অডিট কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাশ বুকও পাওয়া যায়নি।

অডিট প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংগঠনের অর্থ দিয়ে শওকত হোসেন নামের একজনের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি ফ্রিজ কেনা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে কোনো ভাউচার ছাড়াই কোষাধ্যক্ষ নাসিরুল আজম বাপ্পিকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাজী হাসান ও নাজমুল নামের দুজনকে ৩ হাজার টাকা করে নগদ দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

একই খরচ দুইবার দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির দুপুরের খাবারের বিল একই ভাউচারে দুইবার দেখানো হয়। এ খাতে ১৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং ফটোকপি বাবদ ১ হাজার ৫০ টাকা খরচ দেখানো হয়েছিল বলে অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বেশির ভাগ ভাউচারে কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং তারিখ না থাকার বিষয়ও অডিট কমিটির নজরে এসেছে। মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পৃথকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করায় দুই পক্ষের হিসাবেও বড় ধরনের অমিল পাওয়া যায়। এর ফলে সঠিকভাবে হিসাব নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার আরও কিছু অনিয়মও চিহ্নিত করেছে অডিট কমিটি। বিভিন্ন বিল-ভাউচারে ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণ নেই এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেভিনিউ স্ট্যাম্পও ব্যবহার করা হয়নি। কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসের বিলেও কোষাধ্যক্ষ ও সম্পাদকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

অডিট কমিটি ভবিষ্যতে প্রতিটি বিল ও ভাউচারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাশ বুক ও আয়-ব্যয়ের হিসাব তৈরিতে প্রচলিত হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া অনিয়মগুলোর বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরতে পারে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বর্তমান সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ২০১৩-২০১৬ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে তাঁরা সমিতির তহবিলে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা রেখে গিয়েছিলেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিল-ভাউচারসহ হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

অধ্যাপক মাসুদ রানা খান বলেন, ‘২০১৩-২০১৬ সালে আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন এক কোটি ৮ লাখ টাকা রেখে এসেছিলাম। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিল-ভাউচারসহ জমা দিয়েছিলাম। ২০১৬-২০২৩ সাল পর্যন্ত কী হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’

অডিট প্রতিবেদনে ওঠা এসব আর্থিক অসংগতির বিষয়ে দায় নির্ধারণ, অনুপস্থিত নথি উদ্ধার এবং অর্থের হিসাব যাচাই করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অডিট কমিটির সুপারিশগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেটিও নজরে রাখার বিষয়।
 

মক্কা গিয়ে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিলেন অভিনেত্রী রাখি

ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’

বাংলাদেশের ভূমি দিয়ে ভারতের ৭৬৫ কেভি বিদ্যুৎ লাইন আবার আলোচনায়

মাঠে গড়াচ্ছে আফগান প্রিমিয়ার লিগ, সেপ্টেম্বরে প্লেয়ার্স ড্রাফট

সালমান-নয়নতারা জুটি দেখতে মুখিয়ে ভক্তরা, ‘মনস্টার’-এ দুই বাঙালি অভিনেতা

‘খণ্ডিত সংস্কার’ মানবে না বিরোধী দল, সংসদ থেকে ওয়াকআউট

লর্ডসে ভালো শুরু করেও ধরে রাখতে পারল না পাকিস্তান

সৌদি যুবরাজকে চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

অর্থনৈতিক চাপে বাড়ছে জাপানি তরুণীদের যৌনকর্মে জড়ানোর অভিযোগ

১০

একই ফিফা উইন্ডোতে ব্রাজিল–উরুগুয়ে-পানামা

১১

নেপাল–তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদ, আবারও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

১২

৬৪ জেলার তদারকি-সমন্বয়ের দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

১৩

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার সমিতির হিসাবে কোটি টাকার অসংগতি

১৪

সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোট

১৫

কয়লার রামপালে এবার ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৪

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত