আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরেও বিতর্ক থেকে রেহাই মিলছে না আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ)। মেসির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কা থেকেই শুরুতে ম্যাচটি খেলতে অনাগ্রহী ছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ইতালির সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন দাবি।
বুধবার ভোরে বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি হবে তাঁর ২০৮তম এবং শেষ ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রতিপক্ষ বেনিন। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯৩ নম্বরে থাকা আফ্রিকার দলটি ঐতিহাসিক এই ম্যাচে খেলতে রাজি হলেও ম্যাচটির আয়োজন নিয়ে মেসি ও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির দুজনেরই আপত্তি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত মেসি ঘোষণা করেন গত আগস্টে। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পরই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অথচ চার বছর আগে তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তকে বেদনাদায়ক বলেও অভিহিত করেছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি। তাঁর বক্তব্য ছিল, আর্জেন্টিনা দলকে দেওয়ার মতো আর কিছুই তাঁর অবশিষ্ট নেই।
এরপরও মেসির জন্য একটি বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেয় এএফএ। আর এই উদ্যোগের পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাই শুরুতে মেসির অনাগ্রহের কারণ ছিল বলে জানিয়েছে গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট।
ইতালির সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ‘মেসি নিজেই বিদায়ী ম্যাচের ধারণা নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল, এএফএ তাঁর নাম ব্যবহার করে আরও একবার বিপুল অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচটি খেলতে সম্মতি দেন মেসি। আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিজেদের মাঠে তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিন।
ম্যাচ আয়োজনের জন্য এএফএ কলম্বিয়ার একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল বলেও দাবি করেছে গাজেত্তা। তাদের কাজ ছিল এমন প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করা, যারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে কোনো পারিশ্রমিক দাবি করবে না।
সেই তালিকায় শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেয় বেনিন। মেসির বিদায়ী ম্যাচে খেলতে রাজি হয় আফ্রিকার দলটি। প্রতিবেদনের দাবি, এর বিনিময়ে কোনো অর্থ দাবি করেনি তারা; বরং মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পারাটাকেই যথেষ্ট মনে করেছে।
সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এখন অপেক্ষা শুধু সেই মুহূর্তের। বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।