জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলার ‘পলাতক’ আসামি আহসান লাবিবকে জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে। বুধবার সংগঠনটির পঞ্চম সাধারণ সভায় সভাপতি জাহিদ আহসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর আহসান লাবিবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আহসান লাবিব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজকল্যাণ সম্পাদক। জাতীয় ছাত্রশক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহসান লাবিবসহ আট শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করে। পরে শামীম মোল্লার বড় ভাই শাহিন আলম একই বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় লাবিবসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন, উপ-রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তিনি বলেন, ‘যারা গ্রেপ্তার হয়নি, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আহসান লাবিবের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ ও তাঁকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, আহসান লাবিব পলাতক নন এবং তিনি ক্যাম্পাসেই আছেন। মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলছে। ছাত্রলীগেরও কেউ কেউ তাকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে। সে কতটুকু অপরাধী বা কতটুকু অপরাধী না, সেটা তো দেশে আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসার পর সংগঠন যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এটা তো তাকে বিচারের আগেই বিচার করার সমান হয়ে গেল। তাহলে এখানে গণতন্ত্রচর্চা হল না।’
শামীম মোল্লা হত্যা মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তাধীন মামলায় আহসান লাবিবসহ যাঁরা এখনো গ্রেপ্তার হননি, তাঁদের বিষয়ে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।