পুলিশ বলছে, দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে একটি ‘আস্তানায়’ হামলা চালিয়ে ‘পীর’কে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে কিছু লোক। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। তিনি নিজেকে পীর দাবি করে ওই ‘আস্তানা’কে দরবার শরিফ হিসেবে পরিচালনা করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘবদ্ধ হয়ে কিছু লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ‘আস্তানা’য় হামলা চালায়। এ সময় হামলকারীরা শামীম রেজাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। তখন সেখানে কিছু ভক্তও ছিলেন।
ওসি আরিফুল বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা হামলাকারীরা দেখেছেন। ভিডিওটি পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর কিছু মুসলমান লোকজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগে ও ভাঙচুর করেছে। তাদের হামলায় শামীম রেজা নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। শামীমের মরদেহ দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।”
পুলিশ বলছে, ২০২৩ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে শামীমের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পেয়ে পুনরায় ‘আস্তানা’য় ফিরে আসেন। তিনি ভক্তদের নিয়ে নিয়ে সেখানে নিয়মিত বসতেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলছেন, “হামলাকারী কারা সেটা আমরা এখনি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছি না। তবে যেটা হলো, তার (নিহতের) কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ে আগেও প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি কোরআন, ধর্ম নিয়ে কথা বলছেন।তো এগুলো নিয়ে তার একটি পুরনো ভিডিও কেউ একজন সামনে নিয়ে আসছে। সেখান থেকে ইনস্ট্যান্ট একটা ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা সবাই স্থানীয়ই। একটা বড় সংখ্যায় লোকজন সেখানে আসছে। কারা কারা সেখানে আসছে সেটা আমরা খুঁজে বের করব।”
স্থানীয় লোকজনের বাইরে আর কেউ ছিল কি-না জানতে চাইলে এসপি বলেন, “স্থানীয়রা ছিল, এটাই সত্য। মানে এখানে বাইরে থেকে লোকজন এসে এটা করেনি। এই লোকগুলো আগে থেকেই তার নানা কর্মকাণ্ডের কারণে তার (নিহত ‘পীর’) ওপর বিরক্ত।”