দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের মার্কেস আকারম্যান একাই করেছেন ২৫৬ রান, বাংলাদেশ ‘এ’ দল দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছে ২৩৪ রান
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইনিংস ও ২২ রানে জয়ী মার্কেস আকারম্যান। ফলাফল এভাবে বললেও ভুল হয় না। প্রোটিয়া এই ব্যাটার খেলেছেন ২৫৬ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ ‘এ’ দল দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছে ২৩৪! ম্যাচের সম্ভাব্য ধারণাও পাওয়া যায় এখান থেকেই। বাংলাদেশের দলটি শুধু হারেনি, ব্যাটে-বলে বিধ্বস্ত হয়ে বিব্রতকরভঅবে হেরেছে। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে তিন দিনেই ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। প্রিটোরিয়ায় মঙ্গলবার প্রোটিয়ারা ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৬৪৭ রানে। প্রথম ইনিংসে ১২২ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ ‘এ’ দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই করবে কী, উল্টো গুটিয়ে যায় আরও ১০ রান কম করেই।
টেস্ট ম্যাচ হলে এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয় হতো। আনঅফিসিয়াল টেস্ট হওয়ায় সেই রেকর্ডে নাম উঠছে না বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো দলের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড স্পর্শ করা হয়েই গেছে। ২০১৪-১৫ মৌসুমের জাতীয় লিগে মিরপুরে বরিশাল বিভাগকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল ঢাকা বিভাগ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় জয়-পরাজয়ের রেকর্ডটি অবশ্য কখনও ভাঙবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের আইয়ুব ট্রফিতে পাকিস্তান রেলওয়েজ ইনিংস ঘোষণা করেছিল ৬ উইকেটে ৯১০ রানে। জবাবে ডেরা ইসমাইল খান দুই ইনিংসে করেছিল ৩২ ও ২৭। ইনিংস ও ৮৫১ রানের সেই ব্যবধান রয়ে গেছে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জাতীয় দল ও ‘এ’ দল ছাড়াও বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স ও ইমার্জিং দল এখন ব্যস্ত সফরে। তবু এই ‘এ’ দলে শক্তি কম ছিল না, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। ব্যাটিং লাইন-আপের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যাসের পাঁচজনই টেস্ট ক্রিকেটার। বাকি একজন আফিফ হোসেন টেস্ট না খেললেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ১০৮টি। এমন ব্যাটিং লাইন আপও মুখ থুবড়ে পড়ল বাজেভাবে।
প্রিটোরিয়ার টাকস ওভালে মঙ্গলবার আগের দিনের ৫ উইকেটে ৬২২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও তারা মূলত খেলা চালিয়ে যায় ১৯০ রানে অপরাজিত থাকা সিনেথেম্বা কেশিলেকে ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ দিতে। ২৭ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা। এর মধ্যে অবশ্য ডেলানো পটগিটার ৪৩ রানে আউট হন এনামুল হকের বলে।
৫২৫ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ ‘এ’ দল লড়াইয়ের কোনো ছাপই রাখতে পারেনি। ঘাসের ছোঁয়া থাকা বাউন্সি উইকেটে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা রানের জোয়ার বইয়ে দিলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খাবি খেয়েছে। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। আর কেউ ২০ ছুঁতেও পারেননি। তিন প্রোটিয়ার পেসার কোডি ইউসুফ, শেপো মোরেকি ও পটগিটার উইকেট নেন তিনটি করে, বাকিটি আরেক পেসার জেরল্ড কুটসিয়ার। অফ স্পিনার শেপো এনটুলির বল হাতে নেওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি।
বাংলাদেশ উইকেট হারায় দ্বিতীয় ওভারেই। টেস্ট দলে ফেরার লড়াইয়ে থাকা মাহমুদুল হাসান জয় অফ স্টাম্পের বাইরে মোরেকির টানা দুই বলে পরাস্ত হওয়ার পর বোল্ড হয়ে যান ভেতরে ঢোকা বলে। প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করা ওপেনার এবার করেন ১। ভেতরে ঢোকা বলেই ইউসুফ শূন্যতে বিদায় করেন তিনে নামা শাহাদাত হোসেনকে। মোরেকির বাউন্স সামলাতে না পেরে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন জাকির হাসান (৮)। ১৫ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন নাঈম ও আফিফ। চতুর্থ উইকেটে ২৯ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চে যান তারা। বিরতির পর প্রথম বলেই আউট হন আফিফ। ইউসুফের বলে স্লিপে দারুণ ক্যাচ নেন জুবাইর হামজা।
এরপর আর কোনো জুটিই জমে ওঠেনি। আফিফকে হারানোর একটু পর নাঈম শেখ আউট হন লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে। উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন কেশিলে। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে কেশিলের হাতেই ধরা পড়েন ১৮ রান করা অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তাদের ব্যর্থতার পর বাকিদের কাছ থেকে তো প্রত্যাশাই ছিল না তেমন। শেষদিকে একটি করে চার ও ছয়ে ১৫ বলে ১৯ রান করেন এনামুল।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ। পরের ম্যাচ আগামী রোববার থেকে পচেফস্ট্রুমে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ‘এ’ ইনিংস: ১২২ ও ৩২.২ ওভারে ১১২ (জয় ১, নাঈম শেখ ৩০, শাহাদাত ০, জাকির ৮, আফিফ ৬, অঙ্কন ১৮, নাঈম হাসান ১৩, মুরাদ ২, এনামুল ১৯*, আল ফাহাদ ৪, ইমন ৪; ইউসুফ ৯-০-১৯-৩, মোরেকি ১০-৫-৪০-৩, পটগিটার ৬-৩-১৮-৩, কুটসিয়া ৭.২-২-২৯-১)।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৬২২/৫) ১৩০.৪ ওভারে ৬৪৭/৬ (ডি.) (আকারম্যান ২৫৬, কেশিলে ২০০*, পটগিটার ৪৩, কুটসিয়া ৪*; আল ফাহাদ ২০.৪-১-৯২-১, ইমন ৪-০-১৫-০, এনামুল ২৩-৩-৯৮-৩, নাঈম হাসান ৩১-২-১৫২-১, মুরাদ ৪২-১-২১৫-০, জয় ৩-০-২৯-০, আফিফ ৭-০-৩১-০)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ইনিংস ও ৪১৩ রানে জয়ী।