রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা

সিসিটিভির ভয়েই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন সিদ্ধার্থ

রংপুর ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ
 ছবি:

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যার পর বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতে পারে এবং সেখানে নিজেদের উপস্থিতির কোনো চিহ্ন রেকর্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন প্রধান সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ দাস। মিটারের তার কাটার সময় শর্টসার্কিট হয়ে পুরো বাড়ির বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের উপস্থিতির আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করছিলেন আসামিরা। বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার সম্ভাবনা থেকেই বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

শনিবার রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।

ঘটনার পরদিন রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, দুজনই নিহত পরিবারের বাড়ির আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়। গ্রেপ্তারের দিন বিকেলেই তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা পুলিশের কাছে সব তথ্য প্রকাশ না করলেও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সেই জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এখন হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে পুলিশ।

ডিবির সহকারী কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চারজনকে হত্যার পরও বাড়ির ভেতরে নিজেদের উপস্থিতির আলামত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল সিদ্ধার্থের। বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার সন্দেহ থেকেই তিনি বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় বৈদ্যুতিক মিটারের তার কাটতে গিয়ে শর্টসার্কিট হয় এবং পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই তথ্য হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের আচরণ সম্পর্কে তদন্তকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে। কারণ কোনো অপরাধের পর ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ সাধারণত আলামত নষ্ট বা নজরদারি এড়ানোর চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সব দিকের যোগসূত্র এখনো পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।

চারজনকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংস্থা। গ্রেপ্তার হওয়া দুই তরুণের জবানবন্দির পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ বলছে, স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরে আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়।

তবে হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তদন্ত নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মতো ঘটনায় হত্যার উদ্দেশ্য, আসামিদের সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—এসব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

পুলিশ অবশ্য এসব আলোচনার মধ্যে অনুমাননির্ভর তথ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার কথা বলছে। ডিবির কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাইরে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। তবে পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা করছে।

তাঁর দাবি, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এদিকে চারজনের হত্যার ঘটনায় এলাকায় এখনো শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক। তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্য একই ঘটনায় নিহত হওয়ায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে পুলিশের হাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হলো হত্যার পর বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা। সিসিটিভি ক্যামেরার সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক থেকেই যদি এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি হত্যাকাণ্ডের পর আলামত গোপনের চেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তদন্তের ফলাফল মিলিয়ে বিষয়টি কতটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই আসামির জবানবন্দি থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এখন সেসব তথ্য স্বাধীন আলামত ও তদন্তের অন্যান্য ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে হত্যার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, চারজনকে হত্যার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের পাশাপাশি আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না।

সব মিলিয়ে, রংপুরের শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ডে তদন্ত নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পেয়েছে। হত্যার পর সিসিটিভির আশঙ্কায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ শুধু আসামিদের মানসিক অবস্থারই ইঙ্গিত দিচ্ছে না, বরং হত্যাকাণ্ডের পর সম্ভাব্য আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আনছে। এখন তদন্ত ও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণই নির্ধারণ করবে এই ঘটনার পুরো চিত্র।

চোটে ছিটকে যাওয়া পেসার তৃষ্ণার বদলি ১৭ বছরের ফারজানা

বরখাস্ত প্রসঙ্গে ইংলিশ কোচ জোন্স বললেন ‘আমি এখনো চাকরিতে আছি’

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

সিসিটিভির ভয়েই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন সিদ্ধার্থ

নীলফামারীতে জামায়াত ও বিএনপি এমপির বিতণ্ডা

প্রতিরোধের মুখে অস্ত্র রেখেই পালাল বিএসএফ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের

কক্সবাজারে ডুবে যাওয়া নৌযান নিউ জিল্যান্ডের পরিবারটির, সেখানে থাকতেন তারা

১০

পাকিস্তানের ওপর কেন ভরসা ওয়াশিংটনের

১১

আর্থিক প্রলোভনে জুলাই শহীদদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ

১২

মস্কোয় সিআইএ পরিচালক র‌্যাটক্লিফ, মার্কিন সামরিক বিমানের গোপন সফর ঘিরে নানা প্রশ্ন

১৩

ছেলেদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের মেয়েদের এশিয়া কাপ প্রস্তুতি

১৪

ব্রাজিলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে কি বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৫

ইমরান খানের ‘অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে’ পাকিস্তান সরকার

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত