মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ক্রিকেটারদের ফিটনেস অনুশীলনের সুযোগ বাড়াতে নতুন অ্যাথলেটিক ট্র্যাক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একাডেমি মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা গ্রিন হাউস ইনডোরের জায়গায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাক তৈরি করা হবে। বৃহস্পতিবার মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এ পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, ক্রিকেটারদের ফিটনেস অনুশীলনের জন্য মাঠের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এই ট্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একাডেমি মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা গ্রিন হাউস ইনডোর অনেক দিন ধরেই কার্যত অকার্যকর ছিল। সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে আগেই। এবার ওই জায়গা কাজে লাগিয়ে অ্যাথলেটিক ট্র্যাক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তামিম। এরই অংশ হিসেবে মিরপুরে নতুন সুইমিং পুল নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জিমের সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যে সুইমিং পুল ও নতুন জিম প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘আমি আশা করি নভেম্বরের মধ্যে সুইমিং ও নতুন জিম প্রস্তুত হয়ে যাবে। তাতে আমাদের উন্নতমানের জিম, সুইমিং পুল ও রিকভারি সেন্টার থাকবে। সত্যি বলতে, আমরা সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। ক্রিকেটে যতটুকু সুবিধা থাকা উচিত, তার থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তাই, আমরা আস্তে আস্তে করে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে পারি।’
বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি আধুনিক ‘এক্সিলেন্স সেন্টার’ গড়ে তোলার কথা বলে আসছেন তামিম। সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক্সিলেন্স সেন্টার পরিদর্শন করেছেন তিনি। সেখানে ক্রিকেটারদের ফিটনেস অনুশীলনের জন্য অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের ব্যবহার দেখেছেন। মিরপুরেও একই ধরনের সুবিধা তৈরি করতে চান তিনি।
একাডেমি মাঠে তিন লেনের ১১০ মিটার দীর্ঘ সোজা ট্র্যাক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘একাডেমি মাঠে আমরা ১১০ মিটারের একটা অ্যাথলেটিক ট্র্যাক করব। এখন ১১০ মিটারে অ্যাথলেটিক ট্র্যাক করার কারণটা কী? ক্রিকেটারদের রানিং বা ফিটনেসে আমরা যে দৌড়াদৌড়ি করি, এটা মূলত সোজাসুজি।’
তাঁর মতে, আবহাওয়া ও মাঠ ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কারণে ক্রিকেটারদের ফিটনেস অনুশীলনের জন্য আলাদা ট্র্যাক প্রয়োজন। বৃষ্টির পর মাঠ কাদাময় হয়ে গেলে সেখানে দৌড়ানো সম্ভব হয় না। আবার ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য মাঠ সব সময় খালি পাওয়াও যায় না।
ভারতের এক্সিলেন্স সেন্টারে দেখা সুবিধার কথা উল্লেখ করে তামিম বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যখন ভারতে গিয়ে ওদের এক্সিলেন্স সেন্টারে দেখেছি, ঠিক এই জিনিসটাই আছে। তিন লেনের সোজা লাইনের ১২০ মিটারের একটা অ্যাথলেটিক ট্র্যাক। অনেক সময় কিন্তু বৃষ্টিতে আপনি মাঠের মধ্যে দৌড়াতে পারেন না। কাদা হয়ে যায় বা অনেক সমস্যা হয়ে যায়। মাঠে তো সব সময় ফ্রি থাকে না। অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের মধ্যে কিন্তু আপনি যেকোনো স্প্রিন্ট এবং সবকিছু করতে পারবেন।’
শুধু অ্যাথলেটিক ট্র্যাক নয়, একাডেমি মাঠে ক্রিকেট অনুশীলনের সুযোগও বাড়াতে চায় বিসিবি। বর্তমানে মাঠের মাঝখানে চারটি সেন্টার উইকেট রয়েছে। সেটি বাড়িয়ে ১২টি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
এ ছাড়া একাডেমি মাঠে ফ্লাডলাইট স্থাপনের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে মাঠটিতে পর্যাপ্ত ফ্লাডলাইট না থাকায় রাতে ক্রিকেট অনুশীলনের সুযোগ সীমিত। ইনডোরের বাইরের মাঠে থাকা ফ্লাডলাইট প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমি মাঠে স্থানান্তর করা যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানকে বলেছেন তামিম।
তামিম বলেন, ‘একাডেমি মাঠের মাঝখানে আমরা সেন্টার উইকেট ১২টা করে দেওয়া হবে। তারপরে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানকে বলেছি, ওখানে (ইনডোরের আউটার মাঠ) ফ্লাডলাইট লাগানো হয়েছে, ওটা কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে। যদি ওটা অতটা ব্যবহার না হয়ে থাকে, তাহলে ওটা খুলে এখানে এসে লাগানো যায় নাকি আরও কিছু যোগ করে।’
একাডেমি মাঠের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একাডেমি ভবন সংস্কারের পরিকল্পনাও করছে বিসিবি। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরও কী কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তামিম।
একাডেমি ভবনের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট নন তিনি। তাঁর ভাষায়, ভবনটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবহারোপযোগী করার প্রয়োজন রয়েছে।
তামিম বলেন, ‘আমাদের যে একাডেমি ভবন আছে, এই ভবনটাকে আরও কীভাবে ভালো করতে পারি, কীভাবে সংস্কার করতে পারি, কেননা এটার অবস্থা খুব একটা বেশি ভালো না। এসব নিয়েও আজকে কথা বলেছি।’
তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবগুলো বোর্ডে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
মিরপুরে ক্রিকেটারদের জন্য সুইমিং পুল, উন্নত জিম, রিকভারি সেন্টার, অ্যাথলেটিক ট্র্যাক ও বাড়তি সেন্টার উইকেট—সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের অনুশীলন ও ফিটনেস সুবিধা আধুনিক করার একটি পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে বিসিবি। তামিমের লক্ষ্য, ধাপে ধাপে মিরপুরের অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।