মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে জমে উঠেছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ। দিনের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে একসময় বেশ ভালো অবস্থানে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ সেশনে তাইজুল ইসলামের জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা আগেভাগে শেষ হওয়ার আগে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। প্রথম ইনিংসে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। হাতে আছে ৬ উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান। ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস ধসিয়ে দেন তিনি। জবাবে ব্যাট হাতে ফিফটি করেন জন ক্যাম্পবেল। তবে শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুলের আঘাতে কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
বুধবার দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য বেশ স্বস্তির অবস্থায়। আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সকালের সেশনেই দৃশ্যপট বদলে যায়। মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে।
দিনের দ্বিতীয় বলে শতক পূর্ণ করার কিছুক্ষণ পরই সাজঘরে ফেরেন শান্তর পর সাদমান ইসলাম। বাঁহাতি এই ওপেনারের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির পর তার উইকেট তুলে নেন অভিষিক্ত স্পিনার জশুয়া বিশপ। এরপর আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে ফিরলেও টিকতে পারেননি। বিশপের ফুল লেংথের বলে বাজে শট খেলে বোল্ড হন তিনি। এরপর মেহেদী হাসানকে ফিরিয়ে দেন ওয়ারিক্যান। শামার জোসেফের শিকার হন নাঈম হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়। ইনিংসের শেষ দিকে পরপর দুই বলে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন ওয়ারিক্যান। ২৭২ রানেই থামে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ইনিংসের শুরুতেই ভাগ্যের সহায়তা পান ক্যাম্পবেল। ৫ রানে নাঈম হাসান এবং ২২ রানে শরিফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানের জুটি গড়েন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল। তবে বৃষ্টির বিরতির পর মেহেদী হাসানের দারুণ এক ডেলিভারিতে ক্যাম্পবেলকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দেন ক্যাম্পবেল। স্লিপে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫০ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন ক্যাম্পবেল।
এরপর একই ওভারে জোড়া আঘাত হানেন তাইজুল। কাভেম হজের রক্ষণাত্মক শট থেকে নিচু হয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মুমিনুল হক। পরের বলে আমির জাঙ্গুকে ডিপ স্কয়ার লেগে তানজিদ হাসানের ক্যাচে পরিণত করেন তাইজুল। ৯০ রানে ১ উইকেট থেকে ৯৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ দিকে তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস আর কোনো বিপদ হতে দেননি। পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩১ রানের জুটি গড়ে দিনের খেলা শেষ করেন তারা। চন্দরপল ৪৩ এবং গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন।
বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। দ্বিতীয় দিন শেষে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ১৩৮ রানের ব্যবধান পেরোনোর চ্যালেঞ্জ।