মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। দিন শেষে ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন নাঈম হাসান ও মুমিনুল হকের কনকাশন সাব জাকের আলী। তাদের ব্যাটেই কিছুটা আশা দেখছে বাংলাদেশ।
টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করতে হয়েছে। দিনের নির্ধারিত ৯০ ওভারের বিপরীতে খেলা হয়েছে মাত্র ৬৪.৫ ওভার। দুই দলের মোট ১২টি উইকেটের পতন হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৬টি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজও হারিয়েছে ৬টি। দিনটিতে দুই দল মিলে সংগ্রহ করেছে ১৯০ রান।
দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২০৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চন্দরপল তুলে নেন ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। পরে গ্রিভস করেন ৪৬ রান। অধিনায়ক রোস্টন চেজ অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে।
তবে দ্বিতীয় সেশনে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের স্পিন আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে নাঈম হাসান ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৩৩ রান খরচায় তুলে নেন ৪ উইকেট। এদিন জোসেফকে আউট করে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। মিরাজ নেন ২ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭২ রান। ফলে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে স্বাগতিকরা। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শুরুতেই তানজিদ হাসান শূন্য রানে বিদায় নেন। এরপর সাদমান ইসলাম ১৩ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১০ রান করে ফিরে যান। রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। চেজের বলে সাদমান ও তাওহিদ হৃদয় আউট হওয়ার পর এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর লিটন দাসও রক্ষা পাননি। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪ রান করে ফেরেন তিনি। পরে একই বোলারের বলে ৯ রান করে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ।
একপর্যায়ে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তবে নাঈম হাসান ও জাকের আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ২৬ রান। দিন শেষে নাঈম ও জাকের দুজনই ১৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭৯/৬। সব মিলিয়ে ১০৬ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচে এগিয়ে থাকার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এখন দ্রুত বাংলাদেশের বাকি চার উইকেট তুলে নেওয়ার লক্ষ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশের চেষ্টা থাকবে নাঈম ও জাকেরের প্রতিরোধকে বড় জুটিতে রূপ দিয়ে লিড আরও বাড়ানো।