আন্তর্জাতিক ও রাজনীতি

মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে: রয়টার্স

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৮
 ছবি:

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ইতিবাচক মন্তব্যের পর বিষয়টি কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই সামরিক জোটে যোগ দিলে তা শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, চীন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের হিসাবেও নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তাতে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টিকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরব বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছেন।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে। চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ এটি সদস্যদের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি করছে, যা অনেকটা ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনীয়।

তিন দেশের এই উদ্যোগের পেছনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। তুরস্ক ইতিমধ্যে জানিয়েছে, চুক্তিটি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মুসলিম। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও জনসম্পর্ক রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত এবং এসব দেশ থেকে আসা প্রবাসী আয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

তবে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু ধর্মীয় বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ভারসাম্যের পররাষ্ট্রনীতিও জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুলাংশে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাক বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এর বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনো একটি সামরিক বা ভূরাজনৈতিক বলয়ে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবও ঢাকাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়ার মতে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে ভারতের পাশাপাশি চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, এতে সম্পর্কগুলো সরাসরি ভেঙে পড়বে এমন নয়, কিন্তু বাংলাদেশ কোন ভূরাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে অবস্থান করছে—এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাব। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীলতা রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের জবাব এখনো নয়াদিল্লির কাছ থেকে আসেনি।

এর পাশাপাশি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে এমন একটি সময়ে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা সামনে আসায় ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের কারণে নয়াদিল্লি এ ধরনের উদ্যোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটিও বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক বিবেচনার বিষয়।

মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির ওপর নয়াদিল্লি ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। ভারত সরাসরি বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো কঠোর অবস্থান না জানালেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো নিরাপত্তা কাঠামোতে বাংলাদেশের যোগদান নয়াদিল্লির কাছে সহজ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত শুধু ভারতের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করা উচিত নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান। তাঁর মতে, কোনো নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার ধারণা বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ বহুলাংশে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর নির্ভরশীল।

এখানেই বাংলাদেশের সামনে মূল কূটনৈতিক প্রশ্নটি দাঁড়াচ্ছে—মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়া কি শুধুই একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নাকি এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক অবস্থানও গ্রহণ করবে। যদি চুক্তিটি কেবল নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে সীমিত থাকে, তাহলে ঢাকার জন্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। কিন্তু সদস্য হওয়ার পর যদি কোনো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংঘাতে যৌথ প্রতিরক্ষা অবস্থান নিতে হয়, তখন বাংলাদেশের প্রচলিত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ একই সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। একদিকে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাব্য চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই ঢাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ফলে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামরিক সুবিধার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ভারতের প্রতিক্রিয়া, পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুকে একই সমীকরণে রাখতে হবে।

এ কারণে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে শুধু একটি নতুন প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এটি বাংলাদেশের বহুদিনের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

মক্কা গিয়ে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে যে বার্তা দিলেন অভিনেত্রী রাখি

ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’

বাংলাদেশের ভূমি দিয়ে ভারতের ৭৬৫ কেভি বিদ্যুৎ লাইন আবার আলোচনায়

মাঠে গড়াচ্ছে আফগান প্রিমিয়ার লিগ, সেপ্টেম্বরে প্লেয়ার্স ড্রাফট

সালমান-নয়নতারা জুটি দেখতে মুখিয়ে ভক্তরা, ‘মনস্টার’-এ দুই বাঙালি অভিনেতা

‘খণ্ডিত সংস্কার’ মানবে না বিরোধী দল, সংসদ থেকে ওয়াকআউট

লর্ডসে ভালো শুরু করেও ধরে রাখতে পারল না পাকিস্তান

সৌদি যুবরাজকে চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

অর্থনৈতিক চাপে বাড়ছে জাপানি তরুণীদের যৌনকর্মে জড়ানোর অভিযোগ

১০

একই ফিফা উইন্ডোতে ব্রাজিল–উরুগুয়ে-পানামা

১১

নেপাল–তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদ, আবারও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

১২

৬৪ জেলার তদারকি-সমন্বয়ের দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

১৩

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার সমিতির হিসাবে কোটি টাকার অসংগতি

১৪

সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোট

১৫

কয়লার রামপালে এবার ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৪

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত