ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপিকে ভোট না দিলে বাড়িতে থাকতে পারবে না বলে হুমকি দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে খুব বেশি ভোটার উপস্থিতি ছিলো না। পরে জোরপূর্বক ও টাকা দিয়ে ধানের শিষে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় ঠাকুরগাঁও জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন।
নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও এসব ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল (শুক্রবার) বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন সম্ভব নয়। মাঠে ভোটার নেই, কিন্তু ফলাফলের শতাংশ তাদের মতো করে দেখানো হয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনে ব্যাপক জাল ভোট দেয়া হয়েছে। যাদের আটক করেছে তাদেরকেও ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। অনেককে মেরে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। এখন বিভিন্ন স্থানে আমাদের লোকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। প্রশাসনের সহায়তা আমরা ঠিকভাবে পাইনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোটের দিন বিকাল চারটা পর্যন্ত কোনো অনিয়মের সুরাহা প্রশাসন দিতে পারেনি। সকালে যা দেখেছিলাম, বিকাল চারটায় ভোট শেষ হওয়ার পরও একই অবস্থা বিরাজ করছিল। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমাদের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় এজেন্টদের বের করার পর তারা নিজেদের মতো করে রেজাল্ট তৈরি করেছে। এমনকি কোনো কোনো সেন্টারে ফলাফল না দিয়েই পুরো বাক্সে করে ব্যালট নিয়ে চলে আসার ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ি হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ধানের শীষে সিল মারার প্রতিবাদ করায় প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রশাসন এসে তাকে উদ্ধার করে। একজন প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিরাপদ না থাকেন, তবে নির্বাচন কতটা একতরফা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।
ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় র্যালি ও মিষ্টি বিতরণের প্রসঙ্গ টেনে দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর ও পূর্বপরিকল্পিত। ফলাফল চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হওয়ার আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেখলাম তাদের প্রার্থীকে মালা পরানো হচ্ছে, মিষ্টি খাওয়ানো হচ্ছে এবং বিজয় র্যালি করা হচ্ছে। এতেই প্রমাণিত হয় সবকিছু আগে থেকেই গোছানো ছিল। তারা বিভিন্ন প্রচারণায় আগেই বলে বেড়াত যে গতবারের চেয়ে এবার এক থেকে দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে।