ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। একই দিনে দেশটির চেরনিহিভ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। রুশ হামলায় বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মস্কো।
বৃহস্পতিবার দিনিপ্রোর রেলস্টেশনে হামলার সময় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই সময় প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে ড্রোনটি। হামলায় হতাহতের পাশাপাশি রেল চলাচল ও যাত্রী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে বেসামরিক মানুষের ওপর পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে চেরনিহিভ শহরের ব্যস্ত সড়কে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়। আহত হয়েছে আরও কয়েকজন। ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় একই দিনে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির রেলব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই রুশ হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। রেললাইন, স্টেশন ও ট্রেন ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকছে না; জরুরি সরবরাহ ও দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে।
ইউক্রেনীয় পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির শত শত রেল ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৬ সালে রেল অবকাঠামোতে হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যা ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন।
রাশিয়া বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। অন্যদিকে ইউক্রেনের অভিযোগ, রুশ বাহিনীর হামলায় বেসামরিক মানুষ ও নাগরিক স্থাপনা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দিনিপ্রো ও চেরনিহিভের হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় লড়াই অব্যাহত রয়েছে। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।