ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সন্দেহে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দেয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ছাত্রশক্তির নেতার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলা ডোমঘাটা গ্রামে আলী হোসেন ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান। আলী হোসেন ব্যাপারীর ছেলে সাইফুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক আলী হোসেন বলেন, “ভোরে সাইফুল্লাহর বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে সকালে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুর্বৃত্তরা সাইফুল্লাহর বাড়িতে লাকড়ির ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল, যাতে করে পুরো বাড়িতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিষয়টি সাথে সাথে টের পাওয়ায় প্রতিবেশিদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বাড়ির লোকজন। দুর্বৃত্তরা শুধু বাড়িতে আগুন দেয়নি। তারা কুপিয়ে সাইফুল্লাহদের বসত ঘরের এক পাশের বেড়াও ভেঙে ফেলে। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি ‘
এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ছাত্রলীগ সন্দেহে কয়েক দফা মারধর করে থানায় সোপর্দ করে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।
পরে আহত ছাত্রের মা শাহবাগ থানায় অভিযোগ দেন। তাতে বলা হয়, ছাত্রশক্তির নেতা সাইফুল্লাহ, হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, রিয়াদ মাল, সর্দার নাদিম শুভ, সাকিব, ফোরকান উদ্দীন মহি, বায়েজিদ হাসান, হিমেল ও সঞ্জীব হোসেনসহ আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে পাভেলের ওপর হামলা চালান।
তারা কোনো কারণ ছাড়াই দেশিয় অস্ত্র, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করে ওই শিক্ষার্থীকে। পরে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে ভোর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে এই ঘটনায় নিবিড় তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে ‘
সূত্র : বিডিনিউজ