নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। বন্যায় প্রাণহানি বাড়তে থাকায় দেশটির হাসপাতাল ও শবাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মরদেহ জমা হয়েছে। মরদেহ সংরক্ষণের জায়গা সংকটের কারণে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো গণকবর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। গতকাল রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত সীমান্তবর্তী ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যার পর ভাটি অঞ্চল থেকে শত শত মরদেহ উদ্ধার করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হচ্ছে। এসব মরদেহ সংরক্ষণের জন্য রাজধানীতে জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। তবে তাতেও মরদেহের চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয়ভাবে গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসার আগেই কাঠমান্ডুর চিতওয়ান জেলায় জায়গার সংকটের কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতপরিচয় ৭০টি মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নেপালের এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে তিব্বত সীমান্তের একটি বড় হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর ভোতে কোশী নদীতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পরে তীব্র বেগে সেই পানি ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পানির তোড়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়।
আকস্মিক এই ঢলে নেপালের রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল রোববার পর্যন্ত অন্তত ৭৫২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত আড়াই হাজার মানুষ।
রাজধানী কাঠমান্ডুর সবচেয়ে বড় মরদেহ সংরক্ষণ সুবিধাসম্পন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন। সেখানকার এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁদের শবাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চার গুণের বেশি মরদেহ রাখা হয়েছে। ফলে নতুন করে আর কোনো মরদেহ সেখানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণকবর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ কবর থেকে তুলে তাঁদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা রাখা হবে।
এদিকে ভয়াবহ এই বিপর্যয় মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত ও চীন থেকে উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।