কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনীতিকে চাঙা করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তাঁর বিশেষ দূত সার্জিও গোর। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের কাছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত গোর। গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি।
পোস্টে গোর লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট’। তাঁর দাবি, ট্রাম্প বেশি পারিশ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙা করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে গোর বলেন, চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ‘আরেকটি অসাধারণ চুক্তি’ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়েও অনেক বেশি।
তবে গোরের বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘চুক্তির’ কথা বলা হয়েছে, সেটির বিস্তারিত তিনি পোস্টে উল্লেখ করেননি। তাঁর পোস্টে বাংলাদেশের সঙ্গে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি একসঙ্গে তুলে ধরা হলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকে এ বিষয়ে নতুন কোনো চুক্তি হয়েছে—এমন তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
সার্জিও গোর বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি গত বছরের আগস্ট থেকে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এই কূটনীতিক এর আগে হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্সিয়াল পারসোনেল অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার আগে গোর ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে ‘উইনিং টিম পাবলিশিং’ প্রতিষ্ঠা করেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট এবং একাধিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ সফরের সময় গোর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
তবে ওই বৈঠকের সঙ্গে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার কোনো নতুন চুক্তির কথা জানানো হয়নি। বাংলাদেশ বিমানের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিটি হয়েছিল এর আগেই, গত এপ্রিলে।
ওই চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এসব উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ফলে গোরের সাম্প্রতিক পোস্টে বাংলাদেশের বোয়িং কেনার প্রসঙ্গটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে তিনি যে ‘আরেকটি অসাধারণ চুক্তি’র কথা বলেছেন, সেটি বোয়িংয়ের আগের ক্রয়াদেশকেই বোঝাচ্ছে কি না, নাকি এর বাইরে নতুন কোনো বাণিজ্যিক সমঝোতার কথা বলছেন—তা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট নয়।