জাভেদ মিয়াঁদাদের পর এবার পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মঈন খানও কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের পক্ষে কথা বলেছেন। ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারদেরও ইমরানের সমর্থনে কথা বলার অনুরোধ করেছেন সাবেক এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতির মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। তবে ইমরান ও তাঁর দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কারাগারে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক সতীর্থের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মঈন খান। ইমরানের নেতৃত্বেই টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তাঁর।
এক ভিডিও বার্তায় মঈন বলেন, ‘ইমরান খান খুব অসুস্থ। আমি পাকিস্তান সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে ইমরানকে যেন তাঁর অধিকার দেওয়া হয়।’
ইমরানের সঙ্গে নিজের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মঈন। তিনি বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের সব ক্রিকেটারের কাছেও ইমরানের সমর্থনে আওয়াজ তোলার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা যারা তাঁর সঙ্গে খেলেছি, তাঁকে কাছ থেকে দেখেছি, তারা তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছেন।’
ইমরানের কারাবাস নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন পাকিস্তানের আরও কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম জাভেদ মিয়াঁদাদ। ইমরানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক এই ব্যাটিং কিংবদন্তি।
মিয়াঁদাদই সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রথম সারির সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম, যিনি প্রকাশ্যে ইমরানের কারাবাসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এবার তাঁর পর মঈন খানের বক্তব্যে ইমরানের পক্ষে সাবেক ক্রিকেটারদের অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
ইমরান খান পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানোর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও রাজনৈতিক জীবনের কারণে পাকিস্তানের ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এখনও ব্যাপক।