যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) তার অফিসিয়াল টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আরব নিউজের।
খামেনি বলেন, শত্রুদের যেকোনো নতুন ‘সন্ত্রাসী হামলা’ রুখে দেয়ার সময় ও শর্ত ইরান নিজেই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ও ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন চলাকালে নতুন করে ইরানে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নতুন যেকোনো মার্কিন হামলা সংঘাতকে কেবল আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে বিস্তারিত উল্লেখ না করে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া লেখেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) যদি জায়নবাদীদের (ইসরায়েল) চাপে পড়ে এবং তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে আবারও এ অঞ্চলে নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চারে লিপ্ত হন, তবে যুদ্ধের দাবানল নিঃসন্দেহে অনেক বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে।’
একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা আমাদের জনগণের ক্ষতি করার দুঃসাহস করবে, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
এদিকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি কাতারি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করে আসছে পাকিস্তান ও কাতার। তবে তারা দুই পক্ষকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের পথে উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা এবং মার্কিন হামলা এড়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা প্রধানকে একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে কি না, তা জানায়নি ইরান।