সিশেলস ও সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে কিশোরেরা
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে এক দিনেই দুটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজারবাইজানের বাকুতে বুধবার প্রথমে সিশেলসকে এবং পরে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। এরপর স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে নিজেদের দক্ষতা দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি।
দিনের প্রথম ম্যাচে শেষ ৩২ দলের লড়াইয়ে সিশেলসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে গোল হজম করে সমতায় ফিরতে হয় দলকে। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। গোলরক্ষক শ্রীনাথ হালদার প্রতিপক্ষের দুটি শট ঠেকিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সিশেলসকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হয় সিঙ্গাপুর। এই ম্যাচেও নির্ধারিত সময়ে দুই দলের স্কোর ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশের কিশোরেরা। সিশেলসের বিপক্ষে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও চাপ সামলে জয় তুলে নেওয়া দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
ফিফা প্রথমবারের মতো আয়োজন করছে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল। ২৪ থেকে ৩০ অক্টোবর আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ১৮৯টি দেশের দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতাটি প্রচলিত বিশ্বকাপের ফরম্যাটে নয়; এখানে প্রথমে গ্রুপভিত্তিক বাছাইপর্বের পর দলগুলোর অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে নকআউট ম্যাচ হচ্ছে। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের বিকাশে সহায়তা করা।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। সেই অবস্থানের ভিত্তিতে সমপর্যায়ের দলগুলোর সঙ্গে নকআউট পর্বে খেলছে তারা। সিশেলস ও সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে বাংলাদেশ এখন নিজেদের স্তরের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ফলে টুর্নামেন্টে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে কিশোর ফুটবলারদের সামনে।
এক দিনে দুটি টাইব্রেকার জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা চাপের মুহূর্তে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন। পরের ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে টুর্নামেন্টে আরও ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি হবে।