প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া মাসুদ রানার ঘটনায় এবার গ্রামবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা ও শ্বশুর মান্নান সাপুরে। সালিশ বৈঠকে মাসুদও কান ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁদের অনুরোধ, বসতবাড়ি থেকে যেন উচ্ছেদ করা না হয়।
(নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগা ইউনিয়নের নারায়ণপুরের বিরামগ্রামে মঙ্গলবার মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পূর্ণিমা, তাঁর বাবা মান্নান সাপুরে ও মাসুদ গ্রামবাসীর সামনে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। বৈঠকে পূর্ণিমা বলেন, তাঁর বোন এত দিন মাসুদের সঙ্গে সংসার করেছেন। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর তালাক হয়ে থাকলে তিনি নতুন করে বিয়ে করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি মাসুদকে ছেড়ে দেবেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পূর্ণিমা নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, তিনি আর মাসুদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। তাঁর সঙ্গে টিকটক ভিডিও তৈরি বা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তাঁদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ না করার জন্য স্থানীয়দের কাছে অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে, মান্নান সাপুরে গ্রামবাসীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান। তিনি কান ধরে ও নাকে মাটি ঠেকিয়ে তওবা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিজের আচরণ সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আগে খারাপ ছিলাম। আপনাদের সবার শাসনে আমি ভালো হব।’ তাঁদের বসতবাড়ি থেকে যেন সরিয়ে দেওয়া না হয়, সেই অনুরোধও জানান তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশে রাইগা ইউনিয়নের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় সদস্য আখতার হোসেন এবং লোকমান রেজোয়ান আরিফসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর ওই বাসায় তাঁদের গায়েহলুদ অনুষ্ঠান হয়। পরদিন ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘিরে ২৬ অক্টোবর রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা মাসুদকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয় বলে খবরে বলা হয়েছে। মাসুদ পেশায় আইনজীবীর সহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরদিন ২৭ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে তালাকের ঘোষণা দেওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সালিশে ক্ষমা প্রার্থনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।