স্পেনে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮০ জন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়াগামী রেলপথে বুধবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের একাধিক কামরা রেললাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। কিছু কামরা উল্টে যায়, আর আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের ভাঙা ধাতব অংশ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। দুর্ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে রেললাইনের পাশে দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকা কামরা দেখা যায়।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ট্রেনের একটি আইরো এবং অন্যটি রেনফে পরিচালিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইরো ট্রেনে ১৪৭ জন এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের সময় ট্রেন দুটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রাণে বেঁচে যাত্রীর বর্ণনা
দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া মিগুয়েল নামের এক যাত্রী জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি ছিলেন পেছনের একটি কামরায়। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান এবং ট্রেনটি প্রবলভাবে কাঁপতে শুরু করে। মিগুয়েল বলেন, ডান পাশের জানালা দিয়ে তাকিয়ে তিনি ট্রেনের সামনের অংশ ভেঙে যেতে দেখেন। প্রথমে তাঁর ধারণা হয়েছিল, অন্য ট্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে বুঝতে পারেন, তাঁর নিজের ট্রেনটিও দুমড়েমুচড়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত কামরাগুলোতে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করেন। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
স্পেনে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে রেলপথের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আগের দুর্ঘটনার পরও কেন এমন বড় বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠতে পারে। তবে এবারের সংঘর্ষের সঙ্গে রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা পরিচালনগত কোনো সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দুর্ঘটনায় হতবাক হওয়ার কথা জানান এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
নভেম্বরের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোও দুর্ঘটনার পর প্রচারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ, হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করা এখন স্পেনের কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।