জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, ইসলামে সচেতনভাবে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করে অনেকে তাঁকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং দেশে ইসলামবিষয়ক বইয়ের সীমিত প্রাপ্যতা নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন সামান্তা শারমিন।
পোস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি সময়োপযোগী একটি বয়ান শুনেছেন। আরবি ভাষা না জানা এবং আগে মাদ্রাসা বা অন্য কোনো ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত না থাকায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন তাঁর জন্য কঠিন। বয়সের কারণেও এই চ্যালেঞ্জ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পডকাস্টের শুরু ও শেষের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়ায় সেটি আবার শোনা এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা জানান।
সামান্তা শারমিন লেখেন, ইসলামে তাঁর সচেতনভাবে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে অনেকে কটাক্ষ করেছেন। ইসলাম ও ইসলাম পালনকারীদের প্রতি এত বিদ্বেষ কেন, তা তাঁর কাছে কৌতূহলের বিষয়। এ নিয়ে আড়ালে নানা কথা শুনলেও সরাসরি মুখোমুখি হয়ে আলোচনা করতে কাউকে দেখেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, সামাজিক চাপের কারণে ইসলাম ও এর জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক অবস্থান নেওয়া কিংবা আলোচনা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে শৈশবে পড়া ধর্মশিক্ষার বই বা সহজলভ্য সাধারণ বইয়ের বক্তব্যকে যাচাই ছাড়াই আল্লাহ ও নবী-রাসুলদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন না করে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শত বছরের জ্ঞানচর্চার ধারাকে ডানপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তির্যকভাবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে সামান্তা শারমিন বলেন, এসব সীমাবদ্ধতা ইসলামের নয়; বরং রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। উদাহরণ হিসেবে ইসলামি বইমেলার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, মুসলিম হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর বইমেলায় নতুন বইয়ের সন্ধানে যান, কিন্তু উল্লেখযোগ্য বই পাননি। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকেরা ইসলাম নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করলেও সেসব বইয়ের সামান্য অংশও সেখানে পাওয়া যায় না। বরং পুরোনো বই বিক্রি হতে দেখা যায়। ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকেও নতুন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সীমিত বলে মনে করেন তিনি।
ইসলামি বইমেলায় বইয়ের প্রশংসা করা কয়েকজন রাজনীতিবিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সামান্তা শারমিন। তাঁর ধারণা, কেউ কেউ জ্ঞান বাড়ানোর চেয়ে নিজেদের ইসলামপন্থী হিসেবে তুলে ধরা কিংবা ভোটব্যাংককে সন্তুষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে এমন প্রশংসা করতে পারেন। তাঁর মতে, রাজনীতিবিদেরা চাইলে এই মনোযোগ কাজে লাগিয়ে ইসলামবিষয়ক বই ও গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরতে পারতেন।
পাশ্চাত্যধারার আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করা ব্যক্তিদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি আরও চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেউ কেউ কোরআন না পড়েও ইসলাম সম্পর্কে ধারণা থাকার দাবি করেন এবং পরে এ বিষয়ে ঢালাও মন্তব্য করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তাঁকে একাধিকবার শুনতে হয়েছে—ইসলামে স্ত্রী পুরুষের দাস।
পোস্টের শেষে সামান্তা শারমিন মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করে লেখেন, আল্লাহ যেন সবাইকে আত্মবিশ্বাসী রাখেন এবং সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার তৌফিক দেন।