সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও সংসদীয় দলের জরুরি সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে।
আসন্ন দুর্গাপূজায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়েও বৈঠকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এ সভা ডাকার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।
জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সভা ডেকেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হবে। কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করা হতে পারে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক লংমার্চ এবং রেমিট্যান্স বন্ধের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টিও বৈঠকে উঠতে পারে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় কী ভূমিকা থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। দুর্গাপূজার সময় দেশজুড়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁদের করণীয় নির্ধারণের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় থাকতে পারে।
দলীয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ দলটির জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক অবস্থান স্পষ্ট করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে দলটি। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম বা সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নও সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়গুলো নিয়েও সংসদ সদস্যদের অবস্থান ও করণীয় আলোচনা হতে পারে।
এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই, তৃণমূলের প্রত্যাশা ও অসন্তোষ সামাল দেওয়া এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ক্ষমতায় থেকে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় কমিটি পুনর্গঠন, সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।
সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরুর এক-দুই দিন আগে অথবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।