তানজিদ-সাদমানের ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ; ৩৪৬ রানে অলআউট
আবুধাবি টেস্টে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান, দুই ওপেনারের ফিফটি পেরিয়ে সেঞ্চুরির পথে এগোনোর ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে পাঁচশ রানের স্বপ্ন দেখতেই পারতেন সমর্থকেরা। কিন্তু মাঝের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা আর শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় সেই সম্ভাবনা বাস্তব হয়নি। শেষ পর্যন্ত শনিবার দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের আগে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আগের দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। সকালে বাকি দুই উইকেট থেকে যোগ হয় মাত্র ২৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান। তাইজুল ইসলামকে মোহাম্মদ সালিমের বলে কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলেন আফগানিস্তানের বোলাররা। রিভিউ নিয়ে উইকেটটি নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। এরপর ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন ইয়ামিন আহমেদজাই।
আফগানিস্তানের হয়ে সালিম ৮২ রানে চারটি এবং ইয়ামিন ৭৯ রানে তিনটি উইকেট নেন।
আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে গড় সংগ্রহ প্রায় ৩৬০ রান বলে উল্লেখ করা হয়। এ মাঠে অতীতে পাঁচশ ছাড়ানো ইনিংসও দেখা গেছে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ তাই বড় সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ৩৪৬ রানে থামায় সেই লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়ল সফরকারীরা।
**শুরুটা ছিল বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত**
বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম। তাঁদের ১২৪ রানের জুটিতে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। তানজিদ ৮৩ এবং সাদমান ৬৭ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশের ইনিংসে ছন্দপতন ঘটে। মুমিনুল হক, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারেননি। ফলে দ্রুত রান তোলার বদলে উইকেট ধরে রাখার চাপ বাড়ে। মাঝের সারির এই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরে লিটন দাসের ব্যাটে ইনিংস সামলে নেওয়ার আশা জাগে। তিনি ফিফটি করে ফিরলেও চারশর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ দিকে নাঈমের লড়াইয়ে স্কোর কিছুটা বাড়লেও প্রয়োজনীয় রান যোগ হয়নি।
উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো থাকায় বাংলাদেশের ৩৪৬ রানকে প্রত্যাশার তুলনায় কম মনে হতে পারে। উদ্বোধনী জুটির ভিত্তির পরও দলটি চারশর গণ্ডি পেরোতে পারেনি। সেই হিসাবে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ রান বেশি করার সুযোগ ছিল বলে মনে হতে পারে।
তবে ম্যাচের প্রকৃত চিত্র নির্ভর করবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ওপরও। বাংলাদেশি বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে ৩৪৬ রান নিয়েও লড়াইয়ে থাকা সম্ভব। আর আফগানিস্তান বড় জুটি গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শেষ দিকের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এখন বোলারদের ওপরই নির্ভর করছে, এই সংগ্রহকে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়।