আসন্ন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তরে দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে দলীয়ভাবে তাঁদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরে ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে একটি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলটি সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেও জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে দুই সিটিতে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। সময়মতো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েমের নাম এসেছে বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য। তিনি দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে। খাল পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েও তিনি আলোচনায় এসেছেন।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত আবু সাদিক কায়েম ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি বা ভিপি নির্বাচিত হন।
সাদিক কায়েম ২০২৪ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণদের মধ্যে তাঁর যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে জামায়াত। তবে নির্বাচনের তফসিল, প্রার্থিতা যাচাই ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হবে।