বয়স মাত্র ১৬। অথচ মাঠে তাঁর পারফরম্যান্সে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত এক ফুটবলারের ছাপ। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণ কাভান সুলিভান আবারও নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। এক ম্যাচ বিরতির পর জোড়া গোল করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই কিশোর প্রতিভা।
সান দিয়েগোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। পুরো ম্যাচে তারা পাঁচটি শট নিয়েছে এবং প্রতিটিই গেছে জালে। অন্যদিকে স্বাগতিক সান দিয়েগোর পাঁচটি শটের একটিও গোল হতে দেননি ফিলাডেলফিয়ার জ্যামাইকান গোলরক্ষক আন্দ্রে ব্ল্যাক। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা মেলেনি। মনে হচ্ছিল, বিরতিতে গোলশূন্য সমতায়ই ফিরবে দুই দল। কিন্তু যোগ করা সময়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন সুলিভান। ইনডিয়ানা ভাসিলেভের কাছ থেকে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন তিনি। বক্সের মাঝামাঝি জায়গায় পৌঁছে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ১৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। বিরতির ঠিক আগে পাওয়া গোলেই এগিয়ে যায় ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সফরকারীরা। ম্যাচের ৬২ মিনিটে আবারও গোল করেন সুলিভান। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই ফিলাডেলফিয়ার ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০। চলতি এমএলএস মৌসুমে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। সুলিভানের জোড়া গোলের পরও থামেনি ফিলাডেলফিয়ার আক্রমণ। ৬৭ মিনিটে দামিয়ানি গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি সফরকারীদের হাতে।
শেষ দিকে আরও দুই গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে ফিলাডেলফিয়া। ৮৭ মিনিটে সান দিয়েগোর মিডফিল্ডার আনবিল গোডির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চতুর্থ গোল করেন অতিথিরা। যোগ করা সময়ে মালিক জাকুভিচের গোল আসে পঞ্চমটি। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন।
এই জয়ে সুলিভানের জোড়া গোল যেমন বড় ভূমিকা রেখেছে, তেমনি গোলপোস্টের নিচে আন্দ্রে ব্ল্যাকের দৃঢ়তাও ছিল উল্লেখযোগ্য। সান দিয়েগোর একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে ক্লিন শিট ধরে রাখেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। টানা চার জয়ে আত্মবিশ্বাসও আরও বেড়েছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের। পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি এই জয় দলটির সাম্প্রতিক ছন্দেরও প্রমাণ দিয়েছে।
জাতীয় দলের আলোচনায় সুলিভান
এমএলএসে সুলিভানের এমন পারফরম্যান্সের পর যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে তাঁর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এখনই জাতীয় দলে তাঁর ডাক নিশ্চিত—এমন কোনো তথ্য নেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত পারফর্ম করে আলোচনায় আসা তাঁর জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন; কিন্তু জাতীয় দলের জায়গা নির্ধারিত হবে কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড়ের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তরুণ ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা থাকলেও সুলিভানকে পরবর্তী ক্যাম্পে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেটিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা উচিত। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্র দল নতুন চক্রে প্রবেশ করবে। সেই প্রক্রিয়ায় সুলিভানের মতো উদীয়মান প্রতিভারা নজরে থাকলেও জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি এখনো ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত।
তবে এমএলএসে অল্প বয়সেই তাঁর পারফরম্যান্স জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে পড়ার মতো একটি বার্তা দিচ্ছে। সামনে সুলিভানের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্লাব পর্যায়ে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং ধাপে ধাপে নিজের সামর্থ্য আরও প্রমাণ করা।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় তাঁর উত্থান বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে তাঁর ভবিষ্যৎ যেদিকেই এগোক, ১৬ বছর বয়সে এমএলএসে এমন পারফরম্যান্স তাঁকে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সম্ভাবনাময় তরুণদের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য কবে খুলবে, আদৌ কবে সিনিয়র দলে ডাক আসবে—সেটি সময়ই বলে দেবে। আপাতত সুলিভানের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করা।